সঞ্জীব গোস্বামীর কলমে

সন্ধি পূজা। সাধারনের ধারণা এই সন্ধিক্ষণটিতে দেবী প্রতিমায় আবির্ভূত হন। পুরাণ অনুসারে সন্ধিপূজার বিশেষ মাহাত্ম্য কীর্তিত আছে। ব্রহ্মা রাবণ বধের জন্য দেবীর বোধন করেছিলেন আশ্বিনের কৃষ্ণাষষ্টিতে। সপ্তমীতে দেবী রামের অস্ত্রে প্রবেশ করেন, অষ্টমীতে রামরাবনের যুদ্ধ প্রবল হয়, অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে রাবণকে বধ করেন শ্রীরামচন্দ্র। এখানে দেবী বৈষ্ণবী থেকে উগ্ররূপ ধারণ করেছিলেন। সন্ধিক্ষনে সন্ধিপূজায় দেবীর উদ্দেশ্যে যে ভোগ নিবেদিত হয়, তাতে আমিষ শুধু নয়, রীতিমত পশুবলি দিয়েই মাংস নিবেদন করা হয়। বলা হয়, অষ্টমী-নবমী সন্ধিক্ষণের পূজা এক বছরের পূজার তুল্য। এই সন্ধিক্ষনে ১০৮ প্রদীপ ও ১০৮ পদ্ম দিয়ে দেবীর অর্চনা হয়। নবমী তিথিতে নবরাত্রি ব্রতের সমাগম ঘটে। নবরাত্রি ব্রত অত্যন্ত কঠিন ব্রত। যারা নবরাত্রির ব্রত পালন করেন, নবমীর শেষে তাঁরা এই ব্রত-পালন উদযাপন করেন। এরপরই দেবীর বিদায়বেলার করুণ সুরটি মথিত করে প্রতিটি বাঙালির অন্তর। এদিন দেবীর উদ্দেশ্যে নিরামিষ ও আমিষ দুধরনের ভোগই নিবেদন করা হয়।